বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে প্রায় ২ শতাংশ বাড়ার পর এদিন মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে ১ শতাংশের বেশি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
স্বর্ণের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে দেখা হচ্ছে।
ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসানে চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ডলারের বেশি বেড়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত পণ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়। সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহ বলেন, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। এর ফলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও শক্তিশালী হয়, যা স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক।
সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কায় চাপে স্বর্ণ
স্বর্ণ কোনো সুদ প্রদানকারী সম্পদ নয়। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও নজর বিনিয়োগকারীদের
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও আর্থিক বাজারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা অন্য খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বর্ণের অবস্থান কমাতে পারেন।
স্বর্ণে বিনিয়োগের পূর্বাভাস কমাল ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল
এদিকে চলতি বছরে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস কমিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। আগে ৪০০ মেট্রিক টন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা দুর্বল হওয়ায় এ পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।
রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।
মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর এই দরপতনে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন, জ্বালানি তেলের বাজার এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদহারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
সূত্র: রয়টার্স।

