মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনিতে বরিশালের লোকাল বাসের টিকিট কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে কালকিনি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে কালকিনি ও গৌরনদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যেভাবে বিরোধের শুরু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রামের এমারত ঘরামী বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বাসের সামনের একটি আসন চেয়েছিলেন। তবে কাউন্টার সুপারভাইজার আসন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে কাউন্টারের কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে এমারতের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির এসে এমারতকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এমারত ওই কাউন্টারে গেলে আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
সংঘর্ষে আহত ১০
পরে শুক্রবার রাতে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে মো. জান্নাত (২৬), আল-আমিন (৩৩), মো. শান্ত (১৬)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকার কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল মহাসড়ক
সংঘর্ষের পর বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটি অবরুদ্ধ থাকায় উভয় পাশে যানজট তৈরি হয় এবং যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
এদিকে ঘটনার জন্য একে অন্যকে দায়ী করেছেন দুই পক্ষের সংশ্লিষ্টরা। কাউন্টারকর্মী সবুজ ফকির দাবি করেন, তাঁর কোনো দোষ নেই; এমারতই আগে হামলা করেছেন। অন্যদিকে এমারতের দাবি, সবুজই বিরোধের সূত্রপাত করেছেন এবং তিনি কোনো হামলা করেননি।
