বায়ুদূষণে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টায় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুর মান সূচক (একিউআই) ছিল ১৭৮। এই স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একই সময়ে ২১১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুরের স্কোর ছিল ২০২, তৃতীয় অবস্থানে ভারতের দিল্লির ২০০, চতুর্থ স্থানে মুম্বাইয়ের ১৯৮ এবং পঞ্চম স্থানে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের স্কোর ছিল ১৮১।
ঢাকার বাতাস কেন উদ্বেগজনক?
দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে ঢাকা। বিশেষ করে যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটার নির্গমন এবং নির্মাণকাজের ধুলাবালু রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণস্থলের ধুলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বায়ুর মান পর্যবেক্ষণে একিউআই সূচক ব্যবহার করা হয়। এই সূচকের মাধ্যমে বাতাসে দূষণের মাত্রা এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
একিউআই স্কোর কত হলে কী বোঝায়?
একিউআই স্কোর অনুযায়ী বায়ুর মান সাধারণত কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
- ০–৫০: ভালো
- ৫১–১০০: মাঝারি
- ১০১–১৫০: সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর
- ১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর
- ২০১–৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর
- ৩০১-এর বেশি: বিপজ্জনক
সকাল ৮টায় ঢাকার একিউআই স্কোর ১৭৮ থাকায় শহরটির বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে ছিল। তবে বায়ুর মান ও বিশ্বের শহরগুলোর অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
বায়ুদূষণে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বায়ুদূষণ শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। দূষিত বাতাসের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর থাকলে বাইরে ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কমানো, প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘসময় বাইরে না থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলের ধুলাবালু ব্যবস্থাপনা এবং ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

