সাভার প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে যান চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় কোথাও সড়ক সরু হয়ে গেছে, কোথাও জমেছে কাদা ও বালু। ফলে যানজটের পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহনেও বাড়ছে সময় ও খরচ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বাইপাইল মোড়ের কয়েকটি অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য সড়ক খোঁড়া হয়েছে। আশপাশে জমেছে কাদা। সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন সময়ে যানজট তৈরি হচ্ছে।
বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশ ইট বিছানো হলেও বিভিন্ন জায়গায় ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত নতুন সড়কের কাজ চলছে। অন্যদিকে সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নির্মাণকাজের কারণে নরসিংহপুর অংশেও সড়ক সংকুচিত হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ থাকায় যানবাহন ঝাঁকুনি দিয়ে চলাচল করছে। চালকদের অভিযোগ, এতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্যবাহী যানবাহনে কাঁচামাল ও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।
বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকা ও আশুলিয়ার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সড়কের দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি রোগী পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেককে বিকল্প ও দীর্ঘ পথে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কে অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে অনেক সময় পণ্য পড়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিল্পকারখানাগুলোকেও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
তবে সড়কের কিছু অংশে এরই মধ্যে কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তিও ফিরেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতে ওই অংশসংলগ্ন শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক শাফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে মেরামত করা কিছু সড়ক আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশের দুই লেনের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শেষ হওয়া অংশগুলোও পর্যায়ক্রমে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
