নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় সম্ভাব্য যুক্ত হওয়ার আলোচনা; অন্যদিকে চীনের তৈরি J-10CE যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বড় ধরনের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা।
আলাদাভাবে দেখলে দুই উদ্যোগেরই যৌক্তিকতা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোরও প্রয়োজন হতে পারে।
তবে দুটি বিষয়কে একসঙ্গে দেখলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নেওয়া ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলোই কি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতার পরিসর সংকুচিত করতে পারে?
একটি ছোট রাষ্ট্রের জন্য সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন একই বিষয় নয়। বেশি অস্ত্র মানেই বেশি স্বাধীনতা নয়। আবার বেশি নিরাপত্তা অংশীদার মানেই বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—এসব সম্পর্কের সঙ্গে কী ধরনের বাধ্যবাধকতা, নির্ভরতা ও রাজনৈতিক সংকেত তৈরি হচ্ছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা আর যৌথ প্রতিরক্ষা এক নয়
বাংলাদেশ এখনো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হয়নি। গত ২৭ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।
এখানেই বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অর্থাৎ এটি শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সংলাপ বা অস্ত্র সহযোগিতার কাঠামো নয়; এর সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতাও যুক্ত।
বাংলাদেশ বহু দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করে। এ ধরনের সম্পর্ক দেশের বিকল্প বাড়াতে পারে। কিন্তু যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো একটি দেশের সংঘাতকে নিজেদের সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাবনাও তৈরি করে।
নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে এ ধরনের চুক্তিতে ভবিষ্যতে মিত্রের সংকটে পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও তৈরি হতে পারে।
যুদ্ধবিমান কেনা মানেই নতুন সম্পর্ক
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন কম। পুরোনো যুদ্ধবিমান বহর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক সামরিক পরিবেশে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন।
সরকার চীনের তৈরি J-10CE বহুমুখী যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে এগোচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা ও চুক্তির প্রস্তুতিও হয়েছে।
J-10CE কেনার পক্ষে যুক্তি হিসেবে এর সক্ষমতা ও তুলনামূলক কম খরচের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তবে বিষয়টি শুধু একটি যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদি একটি সামরিক সম্পর্ক তৈরি করা। প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ, অস্ত্র, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ভবিষ্যৎ আপগ্রেড—সব ক্ষেত্রেই সরবরাহকারী দেশের ওপর নির্ভরতা তৈরি হতে পারে।
তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু J-10CE কতটা সক্ষম নয়; বরং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কতটা দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার মধ্যে যাবে।
চীনের ওপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা
গত দুই দশকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী। যুদ্ধবিমান, নৌযান, ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম চীন থেকে পেয়েছে বাংলাদেশ।
একটি দেশের বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী থাকা অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশই বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল।
সমস্যা তৈরি হতে পারে তখনই, যখন সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ একটি মাত্র উৎসের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
এ কারণে সরবরাহকারী বৈচিত্র্য শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি কৌশলগত নিরাপত্তারও একটি অংশ।
বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, অন্য দেশের দৃষ্টিতে ভিন্ন বার্তা
বাংলাদেশ J-10CE কেনাকে কেবল প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখতে পারে। চীনও এটিকে সাধারণ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশগুলো এই পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
বিশেষ করে ভারত বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে J-10CE কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তে ভারতের অনুমতি প্রয়োজন। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র কেনার অধিকার রয়েছে।
কিন্তু একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা শুধু সে দেশ একাই নির্ধারণ করতে পারে না। বড় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও সেই সিদ্ধান্তকে নিজেদের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে।
এখানেই তৈরি হয় তথাকথিত ‘সিকিউরিটি ডিলেমা’ বা নিরাপত্তা-দ্বিধা।
একটি দেশ যে পদক্ষেপকে আত্মরক্ষামূলক মনে করছে, অন্য দেশ সেটিকে হুমকি হিসেবে দেখতে পারে। এরপর দ্বিতীয় দেশও নিজেদের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেয়। এতে পারস্পরিক সন্দেহ আরও বাড়তে পারে।
J-10CE ও মক্কা চুক্তি একসঙ্গে কী বার্তা দিচ্ছে?
চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী। J-10CE কেনা হলে এই সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়টি এগিয়ে নেয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে সামরিক-রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কিছু হিসাব তৈরি হতে পারে।
এর কোনোটিই এককভাবে বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক জোটের অংশ বানায় না। কিন্তু রাষ্ট্রগুলো শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, সামগ্রিক প্রবণতাও মূল্যায়ন করে।
একদিকে চীনের সঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তির সামরিক নির্ভরতা বাড়ছে, অন্যদিকে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে—এই সমন্বয়কে নয়াদিল্লি ঢাকার প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
ফলে বাংলাদেশ সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী হলেও কূটনৈতিকভাবে কিছুটা বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে।
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন মানে সবার থেকে দূরে থাকা নয়
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে অনেক সময় সব পক্ষ থেকে সমদূরত্ব বজায় রাখার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। বাস্তবে একটি ছোট রাষ্ট্রের জন্য এমন নীতি সবসময় সম্ভব বা প্রয়োজনীয় নয়।
বাংলাদেশের জন্য চীন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার। ভারত ভৌগোলিকভাবে অপরিহার্য প্রতিবেশী। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদার। জাপান উন্নয়ন সহযোগী। সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ বাংলাদেশের শক্তি হলো একই সঙ্গে একাধিক পক্ষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা।
স্বায়ত্তশাসনের অর্থ কোনো দেশকে বেছে না নেওয়া নয়; বরং এমন পর্যাপ্ত বিকল্প ধরে রাখা, যাতে একটি অংশীদারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অন্য সব সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
প্রতিরক্ষা খরচের অর্থনৈতিক প্রশ্ন
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তও।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধবিমান প্রকল্প তাই দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের বিষয়।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয় প্রয়োজন। তবে বড় ধরনের অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমানের মূল্য বা অন্য দেশের যুদ্ধে তার পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে চলবে না।
প্রশ্ন হতে হবে—বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা পরিবেশে বিমানটির প্রয়োজন কতটা? এর অপারেশনাল খরচ কত? অস্ত্র ও নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয় কেমন হবে? যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কী হবে? ভবিষ্যৎ আপগ্রেডে কতটা নির্ভরতা তৈরি হবে?
এসব প্রশ্নই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ কোনো দেশ যদি নিজেই সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, উৎপাদন এবং ধীরে ধীরে প্রযুক্তি উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাও বাড়ে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি
বর্তমান বিতর্কের একটি বড় দুর্বলতা হলো—প্রতিটি সিদ্ধান্তকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে।
মক্কা চুক্তি একটি পররাষ্ট্রনীতি ইস্যু, J-10CE একটি প্রতিরক্ষা ক্রয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরেকটি আলাদা ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিন্তু অন্য দেশগুলো এসব বিষয়কে আলাদা করে দেখবে না।
তাই বাংলাদেশেরও প্রয়োজন একটি সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি। কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার আগে জানতে হবে, সেটি কোন হুমকি মোকাবিলার জন্য এবং এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কী ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
একইভাবে বড় অস্ত্র কেনার সময় মূল্য ও সক্ষমতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোনো একটি শক্তির সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে না পড়া, যাতে অন্য সম্পর্কগুলো পরিচালনার স্বাধীনতা কমে যায়।
বাংলাদেশের জন্য পথটি তাই দুর্বল প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্বাধীনতার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া নয়। প্রয়োজন দুটিকেই একসঙ্গে শক্তিশালী করা।
আর তার জন্য দরকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহকারী বৈচিত্র্য আনা, নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা এবং একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
শেষ পর্যন্ত একটি ছোট রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি শুধু শক্তিশালী অস্ত্র বা শক্তিশালী বন্ধু নয়। বরং প্রয়োজনের সময় কখন সহযোগিতা করবে, কখন বাইরে থাকবে এবং কখন ‘না’ বলবে—সেই সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখন সেই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা।

