বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব আলোচনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ও বাংলাদেশের সাবেক ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট।
দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পেস বোলিংয়ের প্রশংসা করেন টেইট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে তিনি বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও বাংলাদেশ একটি টেস্টে জয় পেয়েছে।
টেইট বলেন, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ যেভাবে বোলিং করেছে, তা ছিল দুর্দান্ত। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে গত এক বছর কাজ করার কারণে এই সাফল্যে তিনি পুরোপুরি অবাক হননি।
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের শক্তি নিয়ে টেইট বলেন, দলে সাত-আটজন এমন পেসার রয়েছেন, যাদের যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আছে। শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা না থাকলেও তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি খালেদ আহমেদও দলে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন।
বাংলাদেশ টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসার বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন টেইট। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বলে মনে করেন তিনি। আগামী তিন-চার বছর নিয়মিত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হবে বলে তাঁর মত।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েও আশাবাদী সাবেক এই পেস বোলিং কোচ। তাঁর মতে, ওয়ান্ডারার্স ও সেঞ্চুরিয়নের মতো কন্ডিশনে নতুন বল হাতে বাংলাদেশের পেসাররা ভালো করতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে টেইট বলেন, শরীফুলের ভালো পারফরম্যান্স তাঁকে অবাক করেনি। হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সে তিনি বিশেষভাবে গর্বিত।
তাসকিন আহমেদের গতি কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়ে টেইট বলেন, এতে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তাসকিনকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিয়ে শরীর পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তাঁকে ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তাসকিনের নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
সবশেষে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে বিশ্বমানের উল্লেখ করে টেইট বলেন, সাদা বল কিংবা লাল বল—দুই সংস্করণেই বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন বুঝতে পারছে যে তাদের শক্তি শুধু স্পিন বা ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়; পেসারদের নিয়েও বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনা হচ্ছে।
