ফুটবলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত কতটা নাটকীয় হতে পারে, তারই দারুণ উদাহরণ দেখা গেল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের ম্যাচে। দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকার পর শেষ মুহূর্তে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চার গোল করে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। আর এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় নায়ক মাইকেল ওলিসে।

সোমবার রাতে সাঁ-দেনির স্তাদ দ্য ফ্রান্সে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। মনে হচ্ছিল, ঘরের মাঠে বড় ধাক্কাই অপেক্ষা করছে জিনেদিন জিদানের দলের জন্য। কিন্তু এরপরই বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।

শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল ম্যাচ

ফ্রান্স কোচ জিনেদিন জিদান ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দেজিরে দুয়ে, মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকি। মাঠে নামার পর এই তিনজনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

প্রথমে সমতা ফেরান দেজিরে দুয়ে। এরপর রায়ান শেরকিকে গোল করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওলিসে। পরে নিজেই পরপর দুটি গোল করে ফ্রান্সকে জয়ের পথে নিয়ে যান বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা।

ম্যাচের শেষ দিকে ওলিসের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর গতি, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং গোল করার দক্ষতা বেলজিয়ামের রক্ষণকে কার্যত ভেঙে দেয়।

ওলিসে কি বিশ্বের সেরা?

ম্যাচ শেষে জিদানকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—এই মুহূর্তে মাইকেল ওলিসে কি বিশ্বের সেরা ফুটবলার?

জিদান অবশ্য সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেননি। হাসিমুখে তিনি জানান, ওলিসে মাঠে যা করেন, তা অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা।

জিদানের এমন মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ওলিসের বর্তমান পারফরম্যান্স তাঁকেও মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই দুর্দান্ত সময় কাটানোয় ব্যালন ডি’অরের আলোচনাতেও উঠে এসেছে তাঁর নাম।

জাতীয় দলেও দুর্দান্ত ওলিসে

শুধু বেলজিয়ামের বিপক্ষের ম্যাচ নয়, পুরো ২০২৬ সালেই ফ্রান্সের জার্সিতে অসাধারণ ধারাবাহিকতায় আছেন ওলিসে। গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি।

ফলে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে ওলিসে এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। তাঁর সঙ্গে রায়ান শেরকি ও দেজিরে দুয়ের মতো তরুণদের সমন্বয়ও দলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জিদানের ‘মাস্টারক্লাস’

ফ্রান্সের এই জয়কে অনেকে জিদানের কোচিংয়েরও বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। ম্যাচের কঠিন সময়ে সঠিক সময়ে বদলি নামানোর সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য তৈরি করেছে।

৬০ মিনিটের পর মাঠে নামানো খেলোয়াড়েরা যখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ফল ঘুরিয়ে দেন, তখন জিদানের কৌশল নিয়ে প্রশংসা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ম্যাচ শেষে অবশ্য জিদান পুরো কৃতিত্ব নিজের কাছে রাখেননি। তাঁর মতে, এটি ছিল পুরো দলের সম্মিলিত সাফল্য। বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে নেমে পার্থক্য গড়ে দিলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দলের সবাই নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছেন।

গ্রুপের শীর্ষে ফ্রান্স

বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নেশনস লিগের ‘এ১’ গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ফ্রান্স। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইতালি, ৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় বেলজিয়াম। তুরস্ক এখনো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।

গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে ফ্রান্সের সামনে ইতালি ও তুরস্ক। বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথে বড় কোনো বাধার মুখে পড়তে নাও হতে পারে জিদানের দলকে।

সব মিলিয়ে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের জয় নয়। এটি ফ্রান্সের নতুন যুগের শক্তিমত্তারও বড় বার্তা। আর সেই বার্তার সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ নিঃসন্দেহে মাইকেল ওলিসে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version