অনলাইন ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের পর বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। পরে ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়া হলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করা উচিত।
ইউটিএল নেতারা বলেন, ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা চাকরি থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা অনুমানের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি থেকে কাউকে বাদ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
তাদের দাবি, কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।
স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থার দাবি
বিবৃতিতে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান
ইউটিএল বাদ পড়া চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইউটিএল নেতাদের মতে, ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য বা মতাদর্শভিত্তিক বাছাইয়ের অভিযোগ থাকলে তা নতুন বাংলাদেশের ইনসাফভিত্তিক ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
