২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে গেলে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো ক্ষমতাই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপি সরকারের ভূমিকা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা নিয়ে এসব মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না। বরং এর মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ফিরে আসে, তাহলে আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগের মূল্য কোথায়? তাঁর মতে, সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন
এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির নিজস্ব যুক্তি থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি দলটির কাছে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জবাবদিহি প্রত্যাশা করেন।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিরোধী নয় এনসিপি। তবে তাঁর মতে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি আস্থা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শুধু জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরব থাকার সুযোগ নেই।
‘জনগণই রাষ্ট্রের মালিক’
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা দল কী করছে, তারও জবাবদিহি প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক দলই জনগণের আত্মত্যাগের একক মালিক নয় এবং রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো না গেলে তার দায় শুধু অতীতের শাসকদের ওপর বর্তাবে না; বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এসব বক্তব্য মূলত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মূল্যায়নের প্রতিফলন। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
