শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইরানসহ ১২টি দেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রথম কমিটির বৈঠকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে বিবৃতিটি উপস্থাপন করা হয়। এতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা নিয়ে ১২ দেশের অবস্থান

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব রাষ্ট্রেরই বৈষম্য ছাড়াই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে গবেষণা, উৎপাদন ও ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। এসব স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আইএইএর সংবিধানের নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে দেশগুলো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত এবং আইএইএর সুরক্ষাব্যবস্থার আওতাধীন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

কোন ১২টি দেশ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে?

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, ইরান, নিকারাগুয়া, নাইজার, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

দেশগুলো বলেছে, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকিকে কোনো পরিস্থিতিতেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি

পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ১২টি দেশ। তাদের মতে, এ ধরনের হামলায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সংশ্লিষ্ট দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গুরুতর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া পারমাণবিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের বিষয় নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও জড়িত।

জাতিসংঘের আগের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে ১৯৮১ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৮৭ নম্বর প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।

১২টি দেশ তাদের যৌথ অবস্থানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায় আরও স্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এই যৌথ বিবৃতিকে ইরানের সব নীতির প্রতি ওই দেশগুলোর সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিবৃতিটির মূল বিষয় হলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষাব্যবস্থার আওতাধীন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ও হামলার হুমকি বন্ধ করা।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version