স্পোর্টস ডেস্ক
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের পুরুষ বিভাগের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ১৩ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান করার পর ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে জয় পায় পাকিস্তান।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস মনে করেন, মাঝের ওভারগুলোতে আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাঝের ওভারগুলোতে ভালো বোলিং এবং কম বাউন্ডারি দিলে বাংলাদেশের জয়ের সুযোগ বাড়ত।
পাকিস্তানের রান তাড়ার সময় ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মোস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে ২৩ রান আসে। দুই ওভারে তিনি মোট ৪১ রান দেন। ওই ওভারের পর পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ অনেক সহজ হয়ে যায়।
মোস্তাফিজকে ওই সময়ের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে বোলিং করানো যেত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, দলে একাধিক বিকল্প থাকলেও মোস্তাফিজের ওপরই তাঁর আস্থা ছিল। তাঁর ভাষ্য, মোস্তাফিজ দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করে আসছেন; অন্য কোনো বোলারকে প্রয়োজন মনে হলে তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
এর আগে ব্যাটিংয়েও প্রত্যাশামতো করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকি ব্যাটাররা তাঁকে যথেষ্ট সহায়তা দিতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাস নিজে ৩ বলে ২ রান করে আউট হন।
জাপানে দলের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের ঘাটতিকেও পারফরম্যান্সের একটি কারণ হিসেবে দেখছেন লিটন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগও পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় হোটেলের কক্ষে থাকার পর সরাসরি ম্যাচে নেমে ভালো পারফর্ম করা সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
লিটন আরও জানান, ম্যাচের উইকেট সম্পর্কেও আগে থেকে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না বাংলাদেশের। কয়েক দিন সেখানে খেলা না হওয়া এবং উইকেটে অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় শুরুতে ব্যাটারদের পরিস্থিতি বুঝতে সময় লেগেছে। ধীরে ধীরে উইকেটের আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
পাকিস্তানের কাছে হারের ফলে বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের আশা শেষ হয়েছে। এখন ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচ খেলতে হবে লিটনদের। অন্য সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে।
