আফগানিস্তানে রাতভর বিমান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরেও বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। পরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী।
কান্দাহারে কী ঘটেছে
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে কান্দাহারের এক বাসিন্দা জেট বিমানের শব্দ শোনার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণ এবং শহরের কেন্দ্রে আগুন দেখতে পান। কান্দাহার আফগান তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ নেতার আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
এর কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক স্থাপনা এবং সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থান।
পাকিস্তানের অভিযোগ
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে অবস্থানকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য ওই দেশকে ব্যবহার করছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীও আফগান মাটিতে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান থেকে ড্রোন প্রবেশের ঘটনার পর আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ড্রোনগুলো শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে।
আফগানিস্তানের অবস্থান
হামলার বিষয়ে আফগান সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এএফপির প্রশ্নের জবাব দেননি। তবে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক অভিযোগ রয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কয়েক দিন ধরেই বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক হামলাটি এমন সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। এর আগে পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বোমাবর্ষণে বেসামরিক হতাহতের খবর জানিয়েছিল জাতিসংঘ, আর পাকিস্তান ওই হামলায় ২৮ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করেছিল।
এর পাশাপাশি পাকিস্তানে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের জায়গা হয়ে রয়েছে।
আফগানিস্তানে নতুন করে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রয়েছে। তবে হামলার পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
