অনলাইন ডেস্ক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদা-ধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৯১ জন বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে রসুয়া জেলায় এ ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটে। এতে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকালে একটি ভূমিকম্পের পর পাহাড়ে তুষারধস ও গলিত বরফের পানি দ্রুত প্রবাহিত হয়ে ভোতে কোশী নদীতে মিশে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তবে দুর্যোগের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পরিস্থিতি এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সীমান্তের উভয় পাশে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২৯১ জন বিদেশি পর্যটক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক, যাদের মধ্যে গাইডও রয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সব সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৪৪ জন সেনাসদস্যও রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক করেছেন। মেডিকেল টিম, রেড ক্রস ও স্কাউটদের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোতে কোশী নদীর নিম্ন অববাহিকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর রসুয়া এলাকায় হিমবাহ ফেটে বন্যায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে চলতি বছরের দুর্যোগের মাত্রা আগের বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
