নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যাজনিত ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। সোমবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) এ তথ্য জানিয়েছে।
চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর টানা ষষ্ঠ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন নদী ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের নিখোঁজ তালিকায় ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৯৩৩ জনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ সদস্য এবং পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
নুওয়াকোট জেলায় নিখোঁজের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ১ হাজার ১৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। রসুয়া জেলাতেও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও একই দুর্যোগে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৯১৯ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৭৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল, ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে রেড ক্রস জানিয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
