ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের জন্য শনিবার রাতটা ছিল হতাশার। ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘আ’-তে বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মুখ ঢেকে কথা বলায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড। ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিত নিয়ম প্রয়োগ করে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নেইমারের লাল কার্ডের ঘটনায় ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রথমার্ধে দেখা হলুদ কার্ডের শাস্তি যুক্ত হওয়ায় আগামী দুই ম্যাচে তাঁকে পাবে না সান্তোস। সূত্র: জিই গ্লোবো
কী কারণে লাল কার্ড দেখলেন নেইমার?
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান নেইমার। প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হলুদ কার্ড দেখেন তাঁরা।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর আগে আবারও নেস্তরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান নেইমার। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন তিনি।
নেস্তর বিষয়টি রেফারিকে জানান। এরপর ভিএআর থেকে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওকে ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে বলা হয়। ভিডিও দেখার পর নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
কী এই ‘ভিনি জুনিয়র আইন’?
ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ ও অনুপযুক্ত আচরণ ঠেকাতে নতুন নিয়মের অংশ হিসেবে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণভাবে কথা বলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিলের ঘোষণায় বলা হয়, প্রতিযোগিতা আয়োজক সংস্থা চাইলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলা খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেওয়ার বিধান প্রয়োগ করতে পারে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এই পরিবর্তন কার্যকরের কথা জানানো হয়েছিল। সূত্র: ফিফা
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগের পর বিষয়টি আলোচনায় আসায় নিয়মটি সংবাদমাধ্যমে ‘ভিনি জুনিয়র আইন’ নামে পরিচিত হয়েছে। তবে নিয়মটি এমন নয় যে যেকোনো পরিস্থিতিতে মুখ ঢাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখাতে হবে; প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ কথোপকথনের পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
নিজের ভুল স্বীকার করলেন নেইমার
মাঠ ছাড়ার সময় এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার। পরে নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, মুখ ঢেকে কথা বলা তাঁর ভুল ছিল। তবে তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি নেস্তরকে কোনো আপত্তিকর কথা বলেননি।
সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকা মনে করেন, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ঘটনাটিকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। এ নিয়ে তাঁর বক্তব্যে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং প্রতিপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে, নেস্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে রেফারি ভিএআরের সাহায্যে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেন।
দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না নেইমার
প্রথমার্ধে পাওয়া হলুদ কার্ডটি চলতি মৌসুমে নেইমারের তৃতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় সেটির জন্যও একটি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর সঙ্গে সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি যুক্ত হওয়ায় আগামী দুই ম্যাচে সান্তোসের হয়ে খেলতে পারবেন না তিনি।
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার। এরপর রেড বুল ব্রাগানতিনোর বিপক্ষেও নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি। সূত্র: সিএনএন ব্রাজিল
শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে সান্তোস
নেইমারের লাল কার্ডের কারণে ম্যাচে সান্তোস একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ খেলতে বাধ্য হয়। বাহিয়ার হয়ে প্রথমার্ধে লুসিয়ানো জুবা গোল করেন। তবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে লুয়ান পেরেস গোল করে সান্তোসকে সমতায় ফেরান।
ফলে বাহিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচের ফলের পাশাপাশি নেইমারের লাল কার্ড এবং পরবর্তী দুই ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি এখন দলটির জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সূত্র: ইউওএল
