যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিলামে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে ডাইনোসরের একটি জীবাশ্ম কঙ্কাল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা। ‘জোডি’ নামে পরিচিত এই কঙ্কালটির দাম নিলামের আগে আনুমানিক ৯০ লাখ ডলার ধরা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়েছে এটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবিতে কঙ্কালটি বিক্রি হয়। প্রায় ১২ মিনিট ধরে ছয়জন আগ্রহী ক্রেতার মধ্যে দর-কষাকষি চলে। তবে শেষ পর্যন্ত কে কঙ্কালটি কিনেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
টি-রেক্স নয়, শনাক্ত হয়েছে ন্যানোটাইরানাস হিসেবে
একসময় ‘জোডি’কে টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স প্রজাতির একটি অল্পবয়স্ক ডাইনোসরের কঙ্কাল বলে মনে করা হতো। তবে পরবর্তী গবেষণায় এটিকে ‘ন্যানোটাইরানাস’ নামে স্বতন্ত্র একটি প্রজাতির বলে শনাক্ত করা হয়।
কঙ্কালটির উচ্চতা প্রায় তিন মিটার। এতে জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া ১৯১টি হাড়ের অংশ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে জোডি পিয়ারসন নামের এক ব্যক্তি এটি আবিষ্কার করেন। পরে ক্লেটন ফিপসের নেতৃত্বে কঙ্কালটির খননকাজ সম্পন্ন হয়।
এর আগেও বিপুল দামে বিক্রি হয়েছে ডাইনোসরের কঙ্কাল
জীবাশ্ম নিলামের ইতিহাসে ‘জোডি’র বিক্রয়মূল্য অন্যতম সর্বোচ্চ। এর আগে ‘গাস’ নামে পরিচিত একটি টি-রেক্সের কঙ্কাল ৫ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৬০৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ‘এপেক্স’ নামে পরিচিত একটি স্টেগোসরাসের কঙ্কাল বিক্রি হয়েছিল ৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২৯ কোটি টাকা।
ব্যক্তিগত সংগ্রহে জীবাশ্ম, গবেষণা নিয়ে উদ্বেগ
মূল্যবান ডাইনোসরের জীবাশ্ম ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এসব জীবাশ্ম ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে গেলে গবেষকদের জন্য সেগুলো পরীক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।
তবে অন্যদের মতে, নিলামের মাধ্যমে মূল্যবান জীবাশ্ম সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে জনসাধারণের সামনে প্রদর্শনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘জোডি’র বিপুল দামে বিক্রি ডাইনোসরের জীবাশ্মের বাজারমূল্য এবং বৈজ্ঞানিক নিদর্শন সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

