বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার চোট নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর নিতম্বের জয়েন্টের ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র।
নাহিদের চোটের খবর বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে ভালো ফল করতে চায় বাংলাদেশ। এমন সময়ে দলের অন্যতম গতিময় পেসারকে না পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাহিদের ল্যাব্রামে চোট, শুরু পুনর্বাসন
ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে নাহিদের চোটের বিষয়ে জানিয়েছেন বিসিবির এক কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় নাহিদের ল্যাব্রাম ছিঁড়ে যাওয়ার সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, আগামী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নাহিদের বোলিং শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ল্যাব্রাম হলো কোনো কোনো জয়েন্টের সংযোগস্থলে থাকা নমনীয় টিস্যু, যা জয়েন্টকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এতে চোট লাগলে সুস্থ হতে সময় প্রয়োজন হতে পারে। নাহিদের ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং শারীরিক অবস্থার ওপরই তাঁর মাঠে ফেরার সময় নির্ভর করছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে খেলছেন না নাহিদ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি নাহিদ রানার। চোটের কারণে পুরো সিরিজেই তাঁকে না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থাকায় নাহিদের সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। এ সফরে দুই টেস্টের পাশাপাশি তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ।
বিসিবির ওই কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগেই নাহিদের পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদী নন। তবে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে পুনর্বাসনের অগ্রগতির ওপর।
দ্বিতীয় টেস্টে না ফিরলে সাদা বলের সিরিজে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা
বিসিবির কর্মকর্তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগেও যদি নাহিদ সুস্থ হয়ে উঠতে না পারেন, তাহলে সাদা বলের সিরিজ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন তিনি।
তবে এটি এখনো সম্ভাবনা মাত্র। নাহিদের পুনর্বাসন কতটা ভালোভাবে এগোয় এবং তিনি বোলিংয়ের চাপ নিতে পারেন কি না, সেসব বিবেচনায় নিয়েই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বারবার চোটে বাধাগ্রস্ত নাহিদের প্রত্যাবর্তন
নাহিদ রানার চোটের সমস্যা নতুন নয়। এর আগে জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরের সময় তাঁর পাশের পেশিতে দ্বিতীয় মাত্রার চোট লেগেছিল। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর, এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি।
ওই চোট কাটিয়ে ফেরার প্রস্তুতির সময় পুনর্বাসন কার্যক্রমে আবারও সমস্যায় পড়েন নাহিদ। এবার তাঁর নিতম্বের পেশিতে চোট লাগে। এর ফলে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজেও খেলা হয়নি তাঁর।
এবার ল্যাব্রামের চোট তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথে নতুন বাধা তৈরি করল। ফলে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও নাহিদকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ নাহিদের ফেরা?
নাহিদ রানা বাংলাদেশের অন্যতম গতিময় পেসার। তাঁর গতি ও বোলিংয়ের ধার প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে সহায়তা করে। গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজে তাঁকে না পাওয়া দলের বোলিং পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ধরে রাখতে বাংলাদেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এ অবস্থায় নাহিদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও চোটের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে পূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই জরুরি।
নাহিদ কবে মাঠে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আপাতত তাঁর পুনর্বাসনের অগ্রগতি এবং বোলিং শুরু করার সক্ষমতার দিকেই নজর থাকবে বাংলাদেশ দলের।

