আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দীর্ঘ সময়ের অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসার স্পেসএক্স ক্রু-১২। আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মহাকাশ স্টেশন থেকেই এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজেদের মিশন ও আসন্ন প্রত্যাবর্তন নিয়ে কথা বলবেন চার মহাকাশচারী।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন নাসার মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ার ও জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ)-র মহাকাশচারী সোফি অ্যাডেনট এবং রসকসমসের মহাকাশচারী আন্দ্রেই ফেদায়েভ। সংবাদ সম্মেলনটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা।

ক্রু-১২ চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে তারা স্টেশনে থাকা এক্সপেডিশন ৭৪/৭৫ দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেয়।

মহাকাশে শত শত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

অভিযান চলাকালে ক্রু-১২ সদস্যরা মানবদেহকে পৃথিবীর নিম্নকক্ষপথের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা এবং পৃথিবীতে মানুষের উপকারে আসতে পারে—এমন শত শত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেন।

গবেষণার মধ্যে ছিল নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নিয়ে কাজ, ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রয়োজনমতো শিরায় দেওয়ার তরল বা ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড তৈরির সম্ভাবনা এবং মহাকাশযাত্রার সময় মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্য রক্তপ্রবাহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে গবেষণা।

নাসা বলছে, এসব গবেষণার লক্ষ্য শুধু মহাকাশ অভিযানের জটিলতা বোঝা নয়; পৃথিবীতেও এর বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত ব্যবহার তৈরি করা।

ক্রু-১৩ আসার পর পৃথিবীর পথে

ক্রু-১২ সদস্যরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে বিদায় নেবেন ক্রু-১৩ সেখানে পৌঁছানোর পর। নতুন দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে ক্রু-১২ পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা হবে।

ফেরার আগে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলসংলগ্ন সম্ভাব্য অবতরণস্থলগুলোর আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে মিশন পরিচালনাকারী দল। আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেই চূড়ান্তভাবে ফেরার সময় নির্ধারণ করা হবে।

২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশ স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বসবাস ও কাজ করে আসছে। সেখানে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীতে সম্ভব নয়—এমন বহু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও আবিষ্কার করা হয়েছে।

মহাকাশ স্টেশন নাসাকে দীর্ঘমেয়াদি মানব মহাকাশযাত্রার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বুঝতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে নিম্নপৃথিবী কক্ষপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানো এবং চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের ভিত্তি তৈরিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদ এবং পরবর্তী সময়ে মঙ্গলে মানব অভিযানের প্রস্তুতিতেও এই গবেষণার ভূমিকা রয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version