নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার সুপার ৯৮ পেট্রলের মূল্য ৪ দশমিক ৪০ দিরহাম থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ১৬ দিরহাম করা হয়েছে। এতে দাম কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ ছাড়া স্পেশাল ৯৫ পেট্রলের দাম ৪ দশমিক ২৮ দিরহাম থেকে কমে ৪ দশমিক ০৪ দিরহাম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দাম কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি কমেছে ই-প্লাস ৯১ পেট্রলের দাম। প্রতি লিটারে প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়ে এর নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ দিরহাম। অক্টোবরে এই জ্বালানির দাম ছিল ৪ দশমিক ২১ দিরহাম।
অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৪ দশমিক ৮০ দিরহাম থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ দিরহাম করা হয়েছে। এতে দাম কমেছে প্রায় ১ শতাংশ।
নভেম্বর মাসে আমিরাতে জ্বালানি তেলের দাম
| জ্বালানির ধরন | অক্টোবরে | নভেম্বরে |
|---|---|---|
| সুপার ৯৮ | ৪.৪০ দিরহাম | ৪.১৬ দিরহাম |
| স্পেশাল ৯৫ | ৪.২৮ দিরহাম | ৪.০৪ দিরহাম |
| ই-প্লাস ৯১ | ৪.২১ দিরহাম | ৩.৯৭ দিরহাম |
| ডিজেল | ৪.৮০ দিরহাম | ৪.৭৫ দিরহাম |
সব দাম প্রতি লিটারের হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। পেট্রলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ২৪ ফিলস এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে ৫ ফিলস সাশ্রয় হবে। ফলে ৬০ লিটারের একটি পেট্রল ট্যাংক ভরতে আগের মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪০ দিরহাম কম খরচ হবে।
দাম কমলেও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এখনো বেশি
নভেম্বর মাসে জ্বালানির দাম কমানো হলেও আমিরাতে পেট্রল ও ডিজেলের মূল্য গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম ছিল।
২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমিরাতে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশটির খুচরা জ্বালানি বাজারে পড়ে।
এদিকে অক্টোবরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছায়।
নভেম্বরেও দাম বাড়ার আশঙ্কা ছিল
এর আগে বিশ্লেষকেরা ধারণা করেছিলেন, নভেম্বর মাসেও আমিরাতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছিল।
দুবাইভিত্তিক ক্বামার এনার্জির পরামর্শক আহমেদ জাহির বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি তেলের দাম বাড়াতে সহায়তা করছে। তবে স্থিতিশীল সরবরাহ, চাহিদা কমে যাওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দাম আরও বাড়ার পথে বাধা হতে পারে।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও নভেম্বর মাসে আমিরাতে জ্বালানির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে দেশটির গাড়িচালক ও সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

