নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম থাকায় অনেক কৃষককে মণপ্রতি ধান বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের ধান বর্তমানে মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় গত বছরের তুলনায় ধান উৎপাদনের খরচও বেড়েছে।
উৎপাদন খরচের তুলনায় আয় কম
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নওগাঁয় প্রতি একর আউশ ধান উৎপাদনে গড় খরচ প্রায় ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় খরচ পড়ে প্রায় ২১ হাজার টাকা।
নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর, মান্দা ও নিয়ামতপুর উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে এবার ২০ থেকে ২২ মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হচ্ছে। মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করলে মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই পুরোপুরি উঠছে না কৃষকের।
বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি
ধান কাটার পরপরই কৃষকদের পরিবারের খরচ, ঋণ পরিশোধসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে হয়। এ কারণে বাজারদর কম হলেও অনেক কৃষক ধান ধরে রাখতে পারছেন না।
মহাদেবপুরের এক কৃষক জানান, গত বছর তিনি আউশ ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এবার অনেক কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচের কারণে ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার সুযোগও কম।
নিয়ামতপুরের আরেক কৃষক জানান, তিন বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করতে তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমি চাষের জন্য ঋণ নেওয়ায় ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
দেড় সপ্তাহে মণপ্রতি দাম কমেছে ২০০–৩০০ টাকা
চাতালের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত দেড় সপ্তাহে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কমেছে। বর্তমানে কাটারি ধান ৯০০ থেকে ৯৬০ টাকা, জিরাশাইল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ব্রি-২৮ ধান ৮০০ থেকে ৮২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভ করতে পারতেন।
ধানের দাম কমলেও চালের বাজারে প্রভাব নেই
আউশ ধানের দাম কমে গেলেও নওগাঁর চালের বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি। চালকল মালিকদের মতে, গত বোরো মৌসুমে বাম্পার উৎপাদন ও আগের সময়ে অতিরিক্ত চাল আমদানির কারণে দেশে এখন পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে।
চালের বিক্রি কমে যাওয়ায় মিলাররাও ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, চাল আমদানির প্রভাব আমন মৌসুমেও থাকতে পারে। এর ফলে আমন ধান বিক্রির সময়ও কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
