আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের সাবেক জনতা দল (সেক্যুলার) বা জেডিএস সাংসদ প্রজ্বল রেভান্নার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় ডজনখানেক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও পাওয়া গেছে। তাঁর কাছ থেকে একটি পেনড্রাইভ, চার্জার ও নোটবুকও জব্দ করা হয়েছিল।
গত মাসে বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাই-সিকিউরিটি ব্যারাকে অভিযান চালিয়ে রেভান্নার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি জব্দ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পরে মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকটি পর্ন ভিডিও এবং পেনড্রাইভে ওয়েব সিরিজের ভিডিও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ
কারাগারে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি নেই। বন্দীদের অনুমোদিত যোগাযোগের জন্য নিয়ন্ত্রিত ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) কিংবা নির্দিষ্ট ভিডিও কলিং ব্যবস্থা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।
ফলে রেভান্নার কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফোন উদ্ধারের পর এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা প্রজ্বল রেভান্না ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের একটি মামলায় গত বছর দোষী সাব্যস্ত হন। পরে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগকারী নারী রেভান্না পরিবারের হোলেনারসিপুরার একটি খামারবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০২১ সাল থেকে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে তা প্রকাশের ভয় দেখানো হয়েছিল।
রেভান্নার কাছ থেকে কারাগারে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে—নিষিদ্ধ ডিভাইসটি তিনি কীভাবে কারাগারের ভেতরে পেলেন এবং কীভাবে ব্যবহার করছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
