বিশেষ প্রতিবেদক

নিজে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না বাবা মো. শাহীনুর হক। দেড় বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁর লড়াই নিজের জন্য নয়—দুই বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মুজাহিদ রাইয়ান নূরের একটি চোখের দৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখতে।

জন্মের মাত্র দুই মাস বয়সে মুজাহিদের বাঁ চোখে রেটিনোব্লাস্টোমা (চোখের ক্যানসার) শনাক্ত হয়। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে গত জুলাইয়ে অস্ত্রোপচার করে তাঁর বাঁ চোখটি তুলে ফেলতে হয়। পরে গত ৩০ আগস্ট সেই স্থানে কৃত্রিম চোখ বসানো হয়েছে।

বর্তমানে মুজাহিদের ডান চোখে দৃষ্টি রয়েছে। সেটি যেন ভালো থাকে, সে জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলোআপ চালিয়ে যেতে হচ্ছে পরিবারকে। চিকিৎসার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁর বাবা-মা।

ছেলের চিকিৎসায় দিশাহারা পরিবার

মুজাহিদের বাবা শাহীনুর হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০২২ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তিনি চাকরি পাননি। এ বিষয়ে শাহীনুরসহ ২৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আদালতে রিট করেছেন, যা এখনো বিচারাধীন।

বর্তমানে রাজধানীর বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন শাহীনুর। তিনি মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী হোস্টেলে থাকেন। স্ত্রী ও সন্তান থাকেন গ্রামের বাড়িতে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় আসতে হয় তাঁকে। থাকা, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে গিয়ে এরই মধ্যে পরিবারটিকে ধারদেনা করতে হয়েছে। বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় গত দুই বছর ধরে মুজাহিদের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

শাহীনুর বলেন, ছেলের চিকিৎসায় সময় দিতে গিয়ে স্থায়ী চাকরি করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকায় এনে রাখার মতো আর্থিক সক্ষমতাও তাঁর নেই।

এক চোখ হারিয়েছে, অন্য চোখটি বাঁচানোই এখন চ্যালেঞ্জ

রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ আই হাসপাতালে মুজাহিদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে তাকে লেজার থেরাপি ও ১০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার পেছনে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

মুজাহিদের ডান চোখে ক্যানসারের অবস্থাও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে অচেতন করতে হয়। একটি ফলোআপেই ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা।

আগামী দিনে কতদিন চিকিৎসা চালাতে হবে এবং মোট কত টাকা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো হিসাব নেই পরিবারের কাছে। তাই সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন শাহীনুর ও তাঁর স্ত্রী মনিকা আক্তার।

শাহীনুরের ভাষায়, টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাক—এটি কোনো মা-বাবার পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর একমাত্র চাওয়া, ছেলের অন্তত ডান চোখের দৃষ্টি যেন অক্ষুণ্ন থাকে এবং মুজাহিদ যেন নিজের চোখে পৃথিবী দেখতে পারে।

চিকিৎসায় সহযোগিতার ঠিকানা

হিসাবের নাম: মো. শাহীনুর হক জয় (Md. Shahinur Haque Joy)
হিসাব নম্বর: ৫৫০৬১০১০১৩২৪৪
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুড়াইন শাখা, ঢাকা
বিকাশ/নগদ/রকেট: ০১৯১১২৪১০৯৮ (মুজাহিদের বাবা)

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version