ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে নারী সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ওঠা সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতকে ডেপুটি কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও পরে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পুলিশি জবাবদিহি এবং অভিযোগের তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিক্ষোভের সময় কী ঘটেছিল?
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর থেকে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলছে।
প্রতিদিনই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটছে।
এই আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীদের একজনের অভিযোগের মধ্যে এসিপি বিবেক ভগতের নামও রয়েছে।
তদন্তের আগেই পদোন্নতি
৫ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ১২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও নতুন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। তাঁদের মধ্যে বিবেক ভগতও ছিলেন।
অভিযোগ ওঠার পর তাঁর পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের করা অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পদোন্নতির সিদ্ধান্তটি বিক্ষোভের ঘটনা ও অভিযোগ ওঠার আগেই নেওয়া হয়েছিল। পরে আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়।
নিজের পদোন্নতিতে আপত্তি জানালেন ভগত
ঘটনার নতুন মোড় আসে যখন বিবেক ভগত নিজেই জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি নতুন দায়িত্ব নিতে চান না।
এরপর দিল্লি সরকার তাঁর পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ আপাতত স্থগিত রাখে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চললেও বিবেক ভগতের বিষয়ে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এফআইআর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকেরা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্ত করছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যৌন হয়রানির মতো অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করা উচিত। এ নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নারী সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নারী সাংবাদিকদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ফলে অভিযোগগুলো সত্য কি না, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিবেক ভগতকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাচ্ছে না। একইভাবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর দিল্লিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
