আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর তাঁর এই ভারত সফর। সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
শির ভারত সফরের আগে শুক্রবার বেইজিং জানায়, ভারত ও চীনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা গভীর করা এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দিতে তারা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
সীমান্ত ইস্যুতে অমীমাংসিত বিরোধ
ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি। তিব্বত অঞ্চলের পাশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উচ্চভূমির সীমান্তে দুই দেশই উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমান্ত ইস্যু এখনো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শির বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং এলএসি-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রয়েছে।
বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কও আলোচনায়
সীমান্তের পাশাপাশি ভারত-চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক যোগাযোগও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর ইতোমধ্যে জোর দিয়েছে বেইজিং।
শির সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের মধ্যে ব্রিকসের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থানের হোটেলের ওপর সাময়িকভাবে নো-ফ্লাই জোন চালু করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সম্ভাব্য রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ তল্লাশি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাচ্ছে। ভারতের কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে ঘিরে নেওয়া সবচেয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে এটিকে বর্ণনা করা হচ্ছে।
প্রায় সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিংয়ের এই সফর তাই দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
