নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের অংশগ্রহণে পরিকল্পিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব ও বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে করতে দিল্লি পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি।
আয়োজকদের জানানো হয়েছে, ‘কিছু বিতর্কের’ কারণে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানিসহ আরও কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। চেক রিপাবলিকের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজও আমন্ত্রিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি বাতিলের বিষয়ে সরকারি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না এলেও সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আমন্ত্রিতদের মধ্যে বাংলাদেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশ নিয়ে সম্ভাব্য বিতর্কের আশঙ্কা এর কারণ হতে পারে।
এর আগে ৫ আগস্ট একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের নিশ্চয়তা চেয়েছিল।
এফসিসির সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। দিল্লি পুলিশ কেন অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
ভারতের পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, কোনো বেসরকারি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন এই অনুষ্ঠান ঘিরেও নয়াদিল্লি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেনি।

