নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, দলীয় লোকজন দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিএনপি সরকারের আমলের পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে ‘মিথ্যা দুর্নীতির দায়’ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে একতরফা প্রচারের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা হয়েছে। এতে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। এ ঘটনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আসিফ মাহমুদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বদলি ও পদায়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার বিভিন্ন নথি ও তথ্য তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে জনগণের পক্ষে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রভাবশালী আমলাদের একটি অংশ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল। বর্তমানে সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে সরকার দুদককে ব্যবহার করছে। তাঁর অভিযোগ, দলীয় লোক দিয়ে দুদক গঠন করে পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে আসিফ মাহমুদের এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্য বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলই বিষয়টির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করবে। মামলাটি বা তদন্ত এখনো চলমান থাকলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
