বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্ত সংস্থা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান দ্বীপ। পরদিন বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি (২৭)।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপ তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ জানান, তাহসিফ তাঁর সিনিয়র বড় ভাই।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দ্বীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
পিবিআই ঢাকা উত্তরের হেফাজত থেকে দ্বীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যার স্থান নির্ধারণ, নিহতের মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহের জন্য দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় এর আগে তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম মামলা করেন। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

