বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। তবে সফরটি হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং সফর নিয়ে তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।
নির্দিষ্ট তারিখ এখনো হয়নি
তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, এখনো মাস বা তারিখ কোনো কিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন। সফরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই সময় নির্ধারণ করা হবে।
এর আগের দিনও দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং সফরের জন্য তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। দুই পক্ষের জন্য উপযুক্ত সময়েই সফরটি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রও উঠে এসেছে। পানি, বাণিজ্য, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগসহ নানা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
সফর ঘিরে কী জানা গেল
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হলেও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করেই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাতে তারেক রহমানের সফর বা রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এখনো প্রস্তুতি ও সময় নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের পক্ষ থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা উঠে এসেছে।

