দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২১৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৯ জনে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৩৮৯ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৬ জন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৩ জন।

মাসভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ২৬ দিনে মারা গেছেন ১৪৪ জন। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে অক্টোবর মাসেও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

কোন বিভাগে কতজন হাসপাতালে ভর্তি?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির চিত্র ছিল নিম্নরূপ—

  • ঢাকা বিভাগ: ৯৪২ জন
  • খুলনা বিভাগ: ২৮৪ জন
  • রাজশাহী বিভাগ: ২৪৬ জন
  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ২৪০ জন
  • বরিশাল বিভাগ: ২৩২ জন
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ১২১ জন
  • রংপুর বিভাগ: ১১৩ জন
  • সিলেট বিভাগ: ৪০ জন

বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ও উপযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা যেতে পারে।

জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো হলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version