যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে হারিয়ে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, ইরান যুদ্ধ এবং সরকারি দুর্নীতির অভিযোগ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে কানসাস, আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকটি আসনেও জয় পেয়েছে দলটি।
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব রাজ্যের কয়েকটিতে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন।
ভোটারদের অসন্তোষে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের
নির্বাচনের ফলাফলে ভোটারদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এপির ভোটার জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। একই অনুপাতে ভোটার দেশটির অর্থনীতিকে ভালো অবস্থায় নেই বলে মনে করেন।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাঁদের পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এত দিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নীতির বাস্তবায়নে তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে।
তবে এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন জারির ক্ষমতাও তাদের থাকবে।
এ ছাড়া ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্তের বিষয়টি ডেমোক্র্যাট নেতারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে এপি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও ডেমোক্র্যাটরা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
সব নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না ডেমোক্র্যাটদেরও
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিজেদের সব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
কারণ, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাছে কংগ্রেসে পাস হওয়া বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সেই ভেটো অতিক্রম করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে ৬০ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসে বাধার মুখে পড়তে পারে দলটি।
এ পরিস্থিতিতে আগামী দুই বছর হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তদন্ত এবং আইন প্রণয়ন নিয়ে বিরোধ বাড়তে পারে।

