আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এর আগে ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকুরিসকে হারিয়ে এ পদে নির্বাচিত হন। গোপন ব্যালটে খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট, আর কাকুরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট পড়েছিল।

জাতিসংঘের আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ঘূর্ণন পদ্ধতি অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পালা ছিল। সে অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রার্থীকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর এক বছরের মেয়াদ শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর খলিলুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের সময় তিনি ‘বিনয় ও সম্মানের সঙ্গে’ এ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি সব সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং ঐকমত্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সামনে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ

খলিলুর রহমান এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন জাতিসংঘকে বিভিন্ন যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক বিভাজন, বৈষম্য, জলবায়ু সংকট এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতির মতো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সামনে থাকা এসব চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়া এবং মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বের সময়েই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়াও সামনে আসবে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ার কথা। ফলে ৮১তম অধিবেশনে নেতৃত্বের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও চলবে।

ছয়টি অগ্রাধিকার

৮১তম অধিবেশনের জন্য খলিলুর রহমান ছয়টি বিস্তৃত অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির শাসনব্যবস্থা এবং জাতিসংঘ সংস্কার।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা, গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। এই লক্ষ্য সামনে রেখে খলিলুর রহমান নিজেকে সব সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরির ভূমিকায় দেখতে চান।

দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা

ড. খলিলুর রহমানের রয়েছে দীর্ঘ কূটনৈতিক ও বহুপক্ষীয় অভিজ্ঞতা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দেন এবং নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহ পর নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বনেতারা অংশ নেবেন।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version