দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করায় বন্ধ থাকা কিছু কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম আবার চালু হচ্ছে। আগের কয়েক দিনের তুলনায় বিদ্যুতের লোডশেডিংও কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানায় উৎপাদন পুরোদমে শুরু হয়েছে।

তবে সব এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। নারায়ণগঞ্জে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অধিকাংশ কারখানা এখনও বন্ধ রয়েছে। গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও টাঙ্গাইলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানা পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।

জ্বালানি সংকটে চাপে শিল্পখাত

টানা তিন সপ্তাহের জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানাকে ডিজেল, এলপিজিসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ।

মেঘনা গ্রুপের উৎপাদনেও বড় ধাক্কা

তীব্র গ্যাস সংকটে মেঘনা গ্রুপের চিনি ও লবণ কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বয়লার সচল রাখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের উৎপাদন কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।

দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি এবং দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

হবিগঞ্জে ফিরছে স্বস্তি

হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় তিন সপ্তাহের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে কারখানাগুলো। ছোট-বড় ৮১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন স্বাভাবিক গতিতে ফিরছে।

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের প্রবাহ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে এখনও অচলাবস্থা

নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। গার্মেন্টসের ডাইং সেকশনের বয়লারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলায় বিপুলসংখ্যক গার্মেন্টস, ডাইং, লবণ, সিমেন্ট ও অন্যান্য শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে, আবার কোথাও কারখানার একটি অংশ চালু রেখে বাকি অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

গাজীপুরে ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধ

গাজীপুরে গ্যাস সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে টেক্সটাইল, নিট, ডাইং ও প্রিন্টিং শিল্পে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

অনেক শ্রমিক নিয়মিত কারখানায় এলেও উৎপাদন না থাকায় অলস সময় পার করছেন। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বহন করতে হচ্ছে মালিকদের।

সাভার-আশুলিয়ায় উৎপাদন এখনও স্বাভাবিক নয়

সাভার ও আশুলিয়ায় আগের তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ শিল্পকারখানা এখনও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

কিছু প্রতিষ্ঠান ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে।

টাঙ্গাইলে বন্ধ ৫১ কারখানা

গ্যাসের তীব্র সংকটে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন ধরনের ৫১টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে।

শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, সময়মতো রপ্তানি আদেশের পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ত্রিশালে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চলছে

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে গ্যাস সংকটের মধ্যেও বিকল্প হিসেবে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে শিল্পকারখানার উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানা খোলা রয়েছে এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা চলছে।

সারসংক্ষেপ

দেশের কিছু শিল্পাঞ্চলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বন্ধ কারখানা ধীরে ধীরে চালু হতে শুরু করেছে। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় শিল্প উৎপাদন এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version