চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) এর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৬ দিন আগে শপথ নিতে যাচ্ছেন কার্যনির্বাহী সদস্য আকাশ দাস। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান জানিয়েছেন, তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর আকাশ দাসকে আজ শপথ করানো হচ্ছে।
প্রথম শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন না আকাশ
চাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন আকাশ দাস।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে তিনি প্রথম শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটি চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর শপথ
তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের ২১তম সভায় আকাশ দাসকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের পরই তাঁর শপথ গ্রহণের পথ তৈরি হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকসুর সদস্য হিসেবে শপথ করানো হচ্ছে।
উপাচার্য বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। একবারে শপথ না করানোর চেয়ে তদন্ত শেষে তাঁকে শপথ করানোই ভালো।
মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র ১৬ দিন
আকাশ দাসের শপথ গ্রহণের সময়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ চাকসুর বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে এখন মাত্র ১৬ দিন বাকি।
অর্থাৎ মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি ছাত্রসংসদের কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন। এত কম সময়ের জন্য শপথ নিলেও তিনি নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
জিএসকে জানানো হলেও সময় নির্ধারিত হয়নি
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে যে আকাশ দাস শপথ নেবেন। তবে শপথ অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময় তাঁদের জানানো হয়নি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি উপাচার্যের এখতিয়ারেই রয়েছে।
কী কারণে এত দেরিতে শপথ?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক, তদন্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে আকাশ দাসের শপথ গ্রহণ বিলম্বিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত শেষে তাঁকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরই তাঁকে শপথ করানোর সিদ্ধান্ত আসে।
চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর শপথ গ্রহণ এখন তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
