চাঁদাবাজি, মাদক, দখলদারিত্বসহ কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে দলের নেতাকর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় পদমর্যাদা ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়ালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বার্তা দেন তারেক রহমান। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী অংশ নেন।
অপরাধে জড়ালে দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়
দল গোছানো ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে নির্দেশনা শোনার প্রত্যাশা থাকলেও সভায় তারেক রহমান মূলত নেতাকর্মীদের আচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের পদ বা পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলদারিত্ব কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে।
সভায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান সমকালকে জানান, নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এই নির্দেশনা শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, সারাদেশের বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্দেশনা
মতবিনিময় সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে বেআইনি প্রভাব বা অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করা হবে না। তাই নেতাকর্মীদের এমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, যিনি স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন জামান সমকালকে বলেন, সভায় মূলত দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রথমত, কোনো অপরাধে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নিজেদের যোগ্যতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হতে হবে।
আগের সভাতেও সতর্ক করেছিলেন তারেক রহমান
এর আগে গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের একই হোটেলে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময়ও দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
সর্বশেষ সভায় অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসমর্থনে গুরুত্ব
চট্টগ্রামের সভায় দেওয়া নির্দেশনার মূল বিষয় ছিল অপরাধ থেকে দূরে থাকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করা এবং নির্বাচনে জনগণের সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া।
নেতাকর্মীরা এসব নির্দেশনা কীভাবে বাস্তবায়ন করেন এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।
