চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১০ হাজার ৪৯৬ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই নারীসহ ২৬ বন্দি ও এক কারারক্ষীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মোট ২২টি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাদক পাচারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় এক কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারাগারে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে গত আগস্ট থেকে ঢাকা থেকে পাঠানো ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ তল্লাশি দল প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করছে।

তল্লাশি ব্যবস্থায় পরিবর্তন

কারাগারে মাদক প্রবেশের ঘটনায় গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তল্লাশি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। আগে কারাগারের নিজস্ব কারারক্ষীরা প্রধান ফটকে বন্দিদের শরীর ও সঙ্গে থাকা মালপত্র তল্লাশি করতেন। বর্তমানে ঢাকার বিশেষ টিম নতুন ও আদালত থেকে ফেরত আসা বন্দিদের কঠোরভাবে তল্লাশি করে কারাগারে প্রবেশ করাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ তল্লাশি ব্যবস্থা চালুর পর কারাগারের ফটক দিয়ে ইয়াবা প্রবেশের ঘটনা কমেছে।

সাত বছর ধরে অকেজো স্ক্যানার

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে বন্দিদের মালপত্র পরীক্ষা করার জন্য ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের পরই যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৮ সালে একবার মেরামত করা হলেও ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে এটি আবার অকেজো রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় স্ক্যানারটি সচল করা সম্ভব হয়নি। ফলে বন্দিদের কাপড়, খাবার ও অন্যান্য মালপত্র বর্তমানে হাতে তল্লাশি করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কারারক্ষীর কাছে ২৪৫ পিস ইয়াবা

গত জানুয়ারিতে কারারক্ষী তৌকির হাসানের কাছ থেকে ২৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০ জানুয়ারি আদালতে তোলার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং একই দিন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ১৯ মে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারের ভেতরেও অল্প পরিমাণ ইয়াবা বা গাঁজাসহ মাঝে মাঝে বন্দিদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কারাগারে ইয়াবার দাম দ্বিগুণ

চট্টগ্রাম কারাগারে ইয়াবার দাম বাইরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাইরে একটি ইয়াবা যেখানে প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়, কারাগারের ভেতরে সেটি প্রায় ৬০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে একাধিক বন্দির কাছ থেকে শত শত এবং কোনো কোনো ঘটনায় এক হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ বলেন, কারা ফটকের পাশাপাশি কারাভ্যন্তরেও মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকসহ আটক বন্দিদের বিরুদ্ধে কারা বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বন্দি ও কারারক্ষীদের মধ্যে পরিচিতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তল্লাশিতে শিথিলতা দেখানোর অভিযোগ ওঠার পরই ঢাকার বিশেষ তল্লাশি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর কারাগারে তল্লাশি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং প্রতিটি বন্দিকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version