চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে নাব্যতা সংকটে বালুচরে আটকে পড়ে সাত ঘণ্টার বেশি সময় ফেরিতে আটকা ছিলেন ২৫০-এর বেশি যাত্রী। পরে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি আবার চলাচল শুরু করে এবং ভোরে বাণসবারিয়া ঘাটে পৌঁছায়।

বুধবার রাত ৭টা ১০ মিনিটের দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া থেকে সীতাকুণ্ডের বাণসবারিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ফেরি ‘কপোতাক্ষ’। কিছুক্ষণ পরই সন্দ্বীপ চ্যানেলের অগভীর অংশে পানির গভীরতা কম থাকায় ফেরিটি আটকে যায়।

রাতভর ফেরির ভেতরেই অবস্থান করেন যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে দুর্ভোগ দেখা দেয়।

ফেরির এক যাত্রী আরমান জারিফ জানান, ফেরিতে একজন রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও ছিল। ফেরিটি আটকে যাওয়ার পর রোগীর অক্সিজেন সিলিন্ডারের অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। পরে রোগীর স্বজনেরা নৌকায় করে একজন চিকিৎসককে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক ফেরির ভেতরেই রোগীকে চিকিৎসা দেন।

এদিকে, ফেরির ক্যানটিনে খাবারের দাম স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা। আটকে থাকার কারণে অন্য কোথাও থেকে খাবার কেনার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে খাবার কিনতে হয়েছে বলে জানান তারা।

ফেরিটির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে ফেরিটি আবার চলতে শুরু করে। পরে ভোর ৫টার দিকে এটি বাণসবারিয়া ঘাটে পৌঁছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন, ফেরিটি বাণসবারিয়ায় পৌঁছেছে এবং আজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে।

তিনি জানান, চ্যানেলের নাব্যতা সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি এই ফেরি সার্ভিস আবার চালু করা হয়।

তবে এ এলাকায় ‘কপোতাক্ষ’ ফেরি আটকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের অক্টোবরেও একই এলাকায় ফেরিটি আটকে প্রায় ২৫ ঘণ্টা অবস্থান করেছিল। পরে তিনটি টাগবোটের সহায়তায় সেটিকে উদ্ধার করা হয়।

নাব্যতা সংকটের কারণে সন্দ্বীপ-বাণসবারিয়া নৌপথে ফেরি চলাচলে বারবার এমন দুর্ভোগ তৈরি হওয়ায় দ্রুত চ্যানেলটির নাব্যতা সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version