স্টাফ রিপোর্টার

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীরা ২০১০–২০১২ সালের Workers’ Profit Participation Fund ও Workers’ Welfare Fund-সংক্রান্ত ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ করেছেন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বকেয়া পাওনা আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে দাবিগুলো জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০১০–২০১২ সময়ের ৫ শতাংশ পাওনা প্রায় ১৬ বছর ধরে নিষ্পত্তি হয়নি। তারা বলছেন, তারা কোনো অনুদান বা দয়া চান না; প্রচলিত আইন, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং আদালতের কার্যক্রম অনুসারে তাদের আইনগত পাওনার স্বচ্ছ, ন্যায্য ও দ্রুত নিষ্পত্তি চান।

তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট পাওনা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো ৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাদের পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

গ্রামীণফোনের বক্তব্য

তবে গ্রামীণফোন জানিয়েছে, সাবেক কর্মীদের উত্থাপিত দাবিগুলো বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অধিকাংশ সাবেক কর্মী অনেক আগেই গ্রামীণফোন থেকে চাকরি ছাড়েছেন এবং তারা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পেয়েছেন।

Workers’ Profit Participation Fund নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গে গ্রামীণফোন জানায়, বিষয়টি আগে একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশের ওপর স্থগিতাদেশও কার্যকর ছিল। পরে তৎকালীন নির্বাচিত কর্মী প্রতিনিধি সংগঠন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল বিষয়টি সমাধানের জন্য সর্বসম্মতভাবে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে।

কোম্পানির দাবি, ওই উদ্যোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এর ফলে আগের রিটটির প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

তবে রিট প্রত্যাহারের পর কিছু সাবেক কর্মী আগের সমঝোতাকে উপেক্ষা করে সুদের অর্থ দাবি করে নতুন মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে গ্রামীণফোন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিষয়টির আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টে নতুন রিট করেছে বলেও জানায়।

গ্রামীণফোন আরও অভিযোগ করেছে, কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, এর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য’ ছড়াচ্ছেন। কোম্পানির কর্মী ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতির ঘটনায় তারা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, তারা ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পাওনা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version