গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মুসলিমা খানম (নাম) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর জোর করে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নূরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি গত ২৭ আগস্ট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বরফা গ্রামে ঘটে। ওই রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুসলিমার মৃত্যু হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

মুসলিমার মৃত্যুর বিচার দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়নের বরফা নতুন বাজার এলাকায় চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে মুসলিমার মা মার্জিনা বেগম, ভাই জুয়েল মোল্লাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, ২০১৪ সালে একই গ্রামের নূরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবার কুরবানকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

২০২২ সালে মুসলিমার মা মার্জিনা বেগম যৌতুক নিরোধ আইনে কুরবানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে মুসলিমাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, এরপরও অর্থের জন্য তাঁর ওপর নির্যাতন চলতে থাকে।

মুসলিমার পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ আগস্ট কুরবান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মুসলিমা মাটিতে পড়ে গেলে কুরবান ও তাঁর বাবা নূরুজ্জামান জোর করে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেন।

পরে মুসলিমা অচেতন হয়ে পড়লে কুরবান ও নূরুজ্জামান তাঁকে একটি ভ্যানে করে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে উঠানে রেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। বিষয়টি দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের আটকে দেন।

পরে মুসলিমাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ওই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মুসলিমার মা মার্জিনা বেগম গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনায় মামলা হয়েছে। কুরবান মোল্লা ও তাঁর বাবা নূরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version