জার্গেন ক্লপের অধীনে জার্মানি জাতীয় দলের নতুন যাত্রার শুরুটা প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব নেওয়া ক্লপের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়হীন জার্মানি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর এবার নিজেদের মাঠে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচে বল দখল ও নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও জার্মানি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের ৭৪ মিনিটে দিমিত্রিওস কুরবেলিসের ডিফ্লেক্টেড শটে গোল হজম করে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ওই গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়।
এটি জার্মানির বিপক্ষে গ্রিসের ইতিহাসে প্রথম জয়। ফলে ক্লপের নতুন অধ্যায়ে শুরুতেই বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে দলের পারফরম্যান্স।
ফলের চেয়ে দল গঠনে বেশি গুরুত্ব ক্লপের
তবে গ্রিসের কাছে হারের পরও খুব বেশি হতাশ নন ক্লপ। জার্মান কোচের মতে, নতুন একটি দল গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন। অল্প সময়ের অনুশীলনে নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে কাঙ্ক্ষিত বোঝাপড়া ও খেলার ধরন তৈরি করা সহজ নয়।
ক্লপ এই সময়টাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায় হিসেবেই দেখছেন। ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে দেখে একটি কার্যকর দল ও নির্দিষ্ট খেলার কাঠামো তৈরি করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচেও আগের একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন ক্লপ। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে নিজের পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগও দেখতে চেয়েছেন তিনি।
আক্রমণে সমস্যা, বল দখলেও আসেনি কাঙ্ক্ষিত ফল
গ্রিসের বিপক্ষে জার্মানি বল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও আক্রমণভাগে খুব বেশি ধার দেখাতে পারেনি। বিশেষ করে গভীর রক্ষণে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
ক্লপের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। কিন্তু গ্রিসের বিপক্ষে সেই ছন্দ পুরোপুরি দেখা যায়নি।
শোয়েনস্টাইগারের হতাশা
জার্মানির সাবেক অধিনায়ক বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেন। তার মন্তব্য, জার্মানি এখন আর আগের মতো শীর্ষ পর্যায়ের দল নেই এবং দলকে আবারও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে।
তবে শোয়েনস্টাইগার সরাসরি ক্লপকে দায়ী করেননি। বরং তিনি বলেছেন, ক্লপ কোনো জাদুকর নন—দলকে উন্নতি করতে হলে খেলোয়াড়দেরও নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে হবে।
সামনে আরও দুটি পরীক্ষা
চলতি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে জার্মানির সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। ১ অক্টোবর সার্বিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর ৪ অক্টোবর গ্রিসের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে মুখোমুখি হবে জার্মানি।
শুরুতে ফল আশানুরূপ না হলেও ক্লপের পরিকল্পনা এখন মূলত দীর্ঘমেয়াদি। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করে ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য জার্মানিকে প্রস্তুত করাই তার লক্ষ্য।
দুই ম্যাচে জয় না এলেও তাই জার্মানির নতুন অধ্যায়ের পুরো চিত্র এখনই পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে আরও ম্যাচ ও সময়ই বলে দেবে ক্লপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা কতটা কার্যকর হয়।
