প্রযুক্তি ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কোড তৈরি, সফটওয়্যার বানানো এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ করার সুবিধা যুক্ত করে কোপাইলটকে নতুনভাবে সাজিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন সংস্করণে একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে Home, Code ও Autopilot—যার মাধ্যমে চ্যাটের পাশাপাশি জটিল কাজ সম্পন্ন, সফটওয়্যার তৈরি এবং ব্যবহারকারীর অনুপস্থিতিতেও নির্দিষ্ট কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন কোপাইলটে Word, Excel ও PowerPoint সরাসরি ব্যবহারের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ফলে আলাদা অ্যাপ না খুলেই নথি, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং সম্পাদনা করা যাবে।
একই জায়গায় চ্যাট ও কাজের সুবিধা
নতুন কোপাইলটের Home অংশে Chat ও Cowork সুবিধা একত্র করা হয়েছে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, তথ্য খোঁজা বা খসড়া তৈরির জন্য Chat ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে একাধিক ধাপের জটিল কাজ কোপাইলটের Cowork সুবিধার মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া যাবে।
এর ফলে কোপাইলটকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এআই সহকারী হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
প্রোগ্রামিং না জেনেও তৈরি করা যাবে সফটওয়্যার
নতুন Code সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিয়েই অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড, অটোমেশন ও বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করা যাবে। এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি গিটহাব কোপাইলটে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অর্থাৎ, প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ না হলেও ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো সফটওয়্যার বা স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবেন।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, Code সুবিধাটি ধাপে ধাপে Frontier প্রোগ্রামের আওতায় চালু করা হবে।
ব্যবহারকারী না থাকলেও কাজ করবে Autopilot
নতুন Autopilot হলো এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও নির্দিষ্ট কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
এটি আগে পরিচিত Scout এআই এজেন্টের নতুন সংস্করণ। প্রতিষ্ঠানগুলোতে Autopilot-কে এক ধরনের ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এজেন্টটির আলাদা পরিচয় থাকবে এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও ঠিক করে দেওয়া যাবে।
কোন কাজ Autopilot করতে পারবে এবং কোন কাজ করতে পারবে না—সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
কোপাইলটের ভেতরেই Word, Excel ও PowerPoint
নতুন সংস্করণে Microsoft Word, Excel ও PowerPoint সরাসরি Copilot-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা কোপাইলটের ভেতর থেকেই সম্পাদনাযোগ্য ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি ও হালনাগাদ করতে পারবেন।
এ ছাড়া দলের অন্য সদস্যরাও এসব ফাইলে কাজ করতে পারবেন। কোপাইলট ও সংশ্লিষ্ট Office অ্যাপের মধ্যে পরিবর্তনগুলোও সমন্বিত থাকবে।
এআই ব্যবহারের খরচও দেখা যাবে
প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের কারণে কত খরচ হচ্ছে, তা নজরে রাখার ব্যবস্থাও যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। এর মাধ্যমে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানগুলো এআই এবং এআই এজেন্ট ব্যবহারের ব্যয় সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারবে।
দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ব্যবহারের ফলে যেন প্রতিষ্ঠানের অপ্রত্যাশিত ব্যয় তৈরি না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এসব সুবিধার মাধ্যমে মাইক্রোসফটের লক্ষ্য হলো Copilot-কে শুধু চ্যাটভিত্তিক এআই সহকারী না রেখে কাজ, সফটওয়্যার তৈরি ও স্বয়ংক্রিয়তার জন্য একটি সমন্বিত এআই প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা।
