হিন্দু দেবতা রাম ও কৃষ্ণকে তুলনা করে মন্তব্য করায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভারতের আলোচিত ধর্মীয় প্রচারক ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। পরে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এলাকায় একটি রামকথা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাম ও কৃষ্ণকে নিয়ে মন্তব্য করেন ৩০ বছর বয়সী ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সেখানে তিনি রামকে ‘সোজা’ এবং কৃষ্ণকে ‘বাঁকা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সমালোচনার মুখে এক ভিডিও বার্তায় ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী দাবি করেন, রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। একটি ভক্তিমূলক পদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও ঠাকুরজির (কৃষ্ণ) ভক্ত। ব্রজভূমির প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। প্রার্থনার সময় আমি ঠাকুরজির কাছে ব্রজে জীবন কাটানোর সুযোগ চাই।’
তিনি আরও জানান, একটি প্রচলিত ভক্তিমূলক পদের ভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাঁশি বাজানো ও ধনুক চালানোর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
কী বলেছিলেন বাগেশ্বর বাবা?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, রাম সোজাসাপটা—তাঁর নাম, চেহারা ও চলাফেরাও সোজা। অন্যদিকে কৃষ্ণকে বাঁকা হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। কৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও মন্তব্য করেন এই ধর্মীয় প্রচারক।
মঞ্চে একজন বাঁশিবাদককে দেখিয়ে তিনি বলেন, বাঁশি বাজানো বড় কোনো বিষয় নয়, তবে ধনুক চালানো আলাদা ব্যাপার।
তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি হিন্দু দেবতাদের নিয়ে এ ধরনের তুলনাকে দুর্ভাগ্যজনক ও আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা
বিতর্কের জবাবে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, তিনি কৃষ্ণের বিরোধী নন। বরং কৃষ্ণের জন্মভূমির দাবির পক্ষে একাধিকবার কথা বলেছেন। কৃষ্ণের প্রতি তাঁর নিজেরও গভীর ভক্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান বাগেশ্বর বাবা।

