নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের পঞ্চম দফার অভিযানে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর ৯১ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ অভিযানে আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’, যা ‘আর স্কোয়াড’ বা ‘র স্কোয়াড’ নামেও পরিচিত, এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে পরিচালিত অভিযানে প্রথমে ৩৬৩ জনকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। পরে রতন গ্রুপ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’ গ্যাংয়ের আরও চারজন এবং একটি থানায় আরও তিনজন আটক হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭০।

তিনি বলেন, মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদেরও পুলিশের নজরদারিতে রাখা হবে।

রতন ও তাঁর সহযোগী গ্রেপ্তার

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রতন (২৫) এর বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। শুক্রবার রাতে কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ সাইফুলকে রতনের ‘ডান হাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া কুমিল্লা নগরীতে অভিযান চালিয়ে ‘ক্রাইম সেটআপ’ গ্যাংয়ের নেতা মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বির (২৪) এবং রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকারকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পাঁচ দফায় আটক ২ হাজার ৪২ জন

গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লার ১৮টি থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ৬২৪ জন, দ্বিতীয় দফায় ২৫৪, তৃতীয় দফায় ৪১৫, চতুর্থ দফায় ৩৭৯ এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাঁচ দফায় মোট আটক হয়েছেন ২ হাজার ৪২ জন। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক, আগের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধের নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যার পর অভিযান জোরদার

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধের পথে ঠেলে দেওয়া কোনো গ্যাং সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version