আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটিতে। বিরল ‘বান্দিবুগিও’ ধরনের এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কঙ্গোর সরকারি তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। চলতি বছরের মে মাসে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। এটিকে কঙ্গোর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আট প্রদেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটিতে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেরিতে রোগ শনাক্ত করা, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। ফলে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার আওতায় আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেশী দেশেও ছড়িয়েছে ইবোলা
কঙ্গোর বাইরে উগান্ডা, কেনিয়া ও নাইজেরিয়াতেও ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নাইজেরিয়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকাতেও নতুন করে ভাইরাসটির বিস্তার ঘটেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আক্রান্ত দেশগুলোতে নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সীমান্তবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বান্দিবুগিও ধরনের ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বিরল বান্দিবুগিও (Bundibugyo) ধরন। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সহায়ক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে অসুবিধা হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব
ইবোলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে। ওই সময় ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
