ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই ওমানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৭ আগস্ট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন প্রচেষ্টার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তাদের একটি যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে ‘সাদা পতাকা’ ওড়ানোর আহ্বান জানান।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ট্রাম্পের হুমকির পেছনে অন্যতম বড় ইস্যু হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ যায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ওমান প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ রুট নিয়ে আলোচনা করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তায় পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়। তিনি আরও জানান, হামাসের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক যোগাযোগের চ্যানেল রয়েছে। এদিকে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও ইসরায়েল-হামাসের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কূটনৈতিক চাপের মধ্যে ওমান
ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন বক্তব্য ওয়াশিংটন-মাসকাট সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং ওমানের মধ্যস্থতার ভবিষ্যৎ এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান নজরদারির বিষয়।

