আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা বলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর খবর পাওয়া গেল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও কাতারে দুটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠানো হয়েছে। এর একটি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে থেকেই সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

প্যাট্রিয়ট মোতায়োজনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা করেছে। একই সময়ে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও প্রায় ১০ হাজার মেরিন নিয়ে অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এরই মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন রয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট পৌঁছালে এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনটিতে দাঁড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানকে নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি তেহরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তি’ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। এ বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জ্বালানি স্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরব ও কাতারের তেল-গ্যাস অবকাঠামোকে ঘিরে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে পাল্টা হামলার ঝুঁকি। উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক। আর উপসাগরীয় জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কাও থাকে।

প্যাট্রিয়টের ওপর বাড়ছে চাপ

বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বর্তমানে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

এ অবস্থায় সৌদি আরব ও কাতারে নতুন করে দুটি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি মোতায়েনকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই মোতায়েন সরাসরি নতুন কোনো সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়; বরং সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন মিত্রদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবেই এর কথা বলা হয়েছে।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version