দ্য টেলিগ্রাফ, ইংল্যান্ড
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটার ইমরান খানকে কারাগারে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে বিচ্ছিন্ন করে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দিতে চাইছে।
দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুই ভাই তাঁদের বাবার শারীরিক অবস্থা, কারাবন্দিত্ব এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকার বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানান। কাসিমের দাবি, তাঁদের মনে হচ্ছে ইমরান খানকে নীরবে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্যও রয়েছে এবং দুই পক্ষের দাবির মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না দুই ছেলে
কাসিম ও সুলাইমান জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেননি। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের মার্চের পর ফোনেও কথা বলার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে অজ্ঞাত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁরা অল্প সময়ের জন্য বাবার সঙ্গে কথা বলতেন।
কাসিম বলেন, তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের কাছেও সহায়তা চেয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে গেলে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা না পাওয়ার আশঙ্কা তাঁদের জানানো হয়েছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
ইমরান খানের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং চিকিৎসা নিয়ে তাঁর পরিবারের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। দুই ছেলে দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর বদলে তাঁকে অন্য একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, তাঁকে তুলনামূলক বড় একটি জায়গায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। দুই ছেলেকে বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগও রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
পিসিবির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ
ইমরানের দুই ছেলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন। তাঁদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান দলের লর্ডসে ম্যাচে নামা নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার প্রসঙ্গও তাঁরা তুলে ধরেন।
তাঁদের মতে, ক্রিকেট ও রাজনীতির বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। ইমরান খান পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক এবং ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের নেতা হওয়ায় তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা হওয়াকে স্বাভাবিক বলে মনে করেন তাঁরা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদও তাঁর প্রতি আচরণের সমালোচনা করেছেন।
‘বাবাকে দেখতে চাই’
কাসিম ও সুলাইমানের বক্তব্যে বাবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার আকাঙ্ক্ষাই সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে। তাঁরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বাবার সঙ্গে নিজেদের জীবন, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নিয়ে স্বাভাবিক কথোপকথনের সুযোগ তাঁরা হারিয়েছেন।
পাকিস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলেও বাবার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তাঁদের প্রবল বলে জানান দুই ভাই। তবে বাবার জন্য তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে চান না বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
