আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে তার পরিণতিও ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ২৮ অক্টোবর ‘পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৪০ বছরের পুরোনো মামলা ব্যবহার করে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়েছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেরা অন্যায় ও অপকর্ম করে পার পাবে না। এসব ঘটনার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের বিষয়ে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন মহল দলটিকে নিয়ে নানাভাবে আলোচনা করছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের শাসনামলের কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট নিয়ে বক্তব্য
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ কেবল সংবিধানে সামান্য পরিবর্তনের জন্য রক্ত দেয়নি কিংবা গণভোটে মতামত দেয়নি। তাঁর দাবি, শাসনব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
২৮ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য
আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে স্মরণ করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই দিনের সহিংসতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে গণতন্ত্রের কথা বললেও ক্ষমতায় গিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত করেছে। একই সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও পুরোনো ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে চলার অভিযোগ তোলেন তিনি। এগুলো তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা
পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন বক্তব্য উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনসম্মত পদক্ষেপ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতারা
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাবলি স্মরণ করার পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার, গণভোট এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে রাজনৈতিক অধিকার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অতীতের সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

