নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা ও অটো ফাইন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে যানবাহনের বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার অংশে ৪৯০টি পিলারে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সাইন অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অপরাধ শনাক্ত করা হচ্ছে।

কোনো যানবাহন আইন ভঙ্গ করলে ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজে পাঠানো হচ্ছে। এরপর নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে মামলার তথ্য ও জরিমানার বিষয়টি জানানো হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানাও পরিশোধ করা যাবে।

কোন অপরাধে কত জরিমানা?

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার বিধান রয়েছে। যেমন—

গতিসীমা লঙ্ঘন: নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।

উল্টো পথে গাড়ি চালানো: নির্ধারিত দিকের বিপরীতে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

ট্রাফিক সিগন্যাল ও সাইন অমান্য: ট্রাফিক সিগন্যাল বা নির্দেশনা অমান্য করলেও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো: চালক বা আরোহীর হেলমেট না থাকা এবং মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী বহনের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। হেলমেট না ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো: বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি: বৈধ ফিটনেস সনদ ছাড়া গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট আইন, অপরাধের ধরন এবং প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ‘নির্দিষ্ট অটো ফাইন তালিকা’কে চূড়ান্ত হিসেবে না ধরে সরকারি তথ্য যাচাই করা জরুরি।

বারবার আইন ভাঙলে আরও কঠোর ব্যবস্থা

স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় কোনো গাড়ি বারবার ট্রাফিক আইন ভাঙলে শুধু জরিমানা নয়, আরও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুনরাবৃত্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিআরটিএ বিধি অনুযায়ী গাড়ির নিবন্ধন বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া যেতে পারে।

ভুয়া জরিমানার SMS থেকে সতর্ক

এআই ক্যামেরা ও ট্রাফিক জরিমানাকে কেন্দ্র করে প্রতারণামূলক SMS বা ভুয়া লিংকের বিষয়েও সতর্ক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ভুয়া বার্তার মাধ্যমে প্রতারকরা PIN, পাসওয়ার্ড বা OTP হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

ডিএমপি জানিয়েছে, তারা কখনো PIN, পাসওয়ার্ড বা OTP চাইবে না। তাই ট্রাফিক জরিমানার নামে কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা ব্যাংকিং তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হওয়া এআইভিত্তিক অটো ফাইন ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের পর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এ প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

Doinik Report | দৈনিক রিপোর্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট—দ্রুত, তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্যভাবে। সত্যের পক্ষে | তথ্যের সঙ্গে | পাঠকের পাশে 🇧🇩

Leave A Reply

© 2026 দৈনিক রিপোর্ট | সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আদিল
Exit mobile version