যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল বিয়াত্রিস কিউল। তার দাবি, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগের বিস্তারিত উঠে এসেছে। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।
প্লাজা হোটেলে ঘটনার অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় হয় বিয়াত্রিস কিউলের। সে সময় তার বয়স ছিল ২৪ বছর।
কিউলের অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে প্লাজা হোটেলের একটি কক্ষে ট্রাম্প তার ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কথিত ঘটনার সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয়। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্য অভিযোগকারীর দাবি এবং ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রতিবেদনে তুলে ধরা তথ্য। এগুলোকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
হোয়াইট হাউসের পাল্টা বক্তব্য
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, ট্রাম্পের সাফল্য থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা হিসেবেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালেও বিয়াত্রিস কিউল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। সে সময় তার বক্তব্যে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও চুমু দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। এবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি একই ঘটনার আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এপস্টেইন প্রসঙ্গেও আলোচনা
প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের পরিচয় ও সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এতে কয়েকজন নারীর বক্তব্য এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ এসেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টেইন-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ঘটনাটির ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রমাণিত আইনি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। বিয়াত্রিস কিউলের অভিযোগের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থান এখনো অস্বীকৃতির।

