দক্ষিণ লেবাননের পাহাড় ও উপত্যকা কেটে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব সড়কের মাধ্যমে লেবাননের ভূখণ্ডে স্থাপিত সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামরিক অবস্থানগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরির পাশাপাশি সেনাদের চলাচল সহজ করাও এসব সড়ক নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির বরাতে রোববার (১ নভেম্বর) খবরটি প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কয়েকটি সামরিক অবস্থান স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের অভিযানও অব্যাহত রেখেছে তারা।
মধ্যাঞ্চলের আওতায় রয়েছে আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহর। এর মধ্যে মারুন আল-রাস থেকে সীমান্তের ওপারে ইসরায়েলের আভিভিম বসতি দেখা যায়।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব এলাকায়ও নির্মাণকাজ চলছে। এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল (ইউএনআইএফআইএল) মোতায়েন রয়েছে।
কেন তৈরি করছে এসব সড়ক?
লেবাননের সংবাদমাধ্যম ল’অরিয়েন্ট টুডের ৬ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে সেনাদের চলাচল ও রসদ সরবরাহ সহজ করছে ইসরায়েল। এসব সড়কের কোনো কোনোটি লেবাননের ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর ইসরায়েলের যোগাযোগও তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সড়কগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে সড়ক নির্মাণের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আলোচনার মধ্যেই বাড়ছে সামরিক তৎপরতা
গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক সড়ক নির্মাণকে শুধু অবকাঠামোগত কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সেনাদের চলাচল, রসদ সরবরাহ ও সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার পাশাপাশি এসব সড়ক ওই অঞ্চলে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।

